এক মাসেও নিখোঁজ রত্নাকে উদ্ধার করতে পারেনি মাগুরা পুলিশ। পিবিআইকে মামলা দেওয়ার দাবি

হাসনাইন সাজ্জাদী
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৬০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাগুরা সদরের পশু হাসপাতাল পাড়ার রত্না খাতুন (৪৫) (পিতামৃত আফসার খান) নিখোঁজ হয়েছেন গত ৪ জুলাই। আজ একমাস গত হলেও সন্ধান পায়নি মাগুরা সদর থানার পুলিশ। এদিন সন্ধ্যা ৭টা ১মিনিটে নিখোঁজ হন রত্না। তিনি দেখা করতে গিয়েছিলেন বাতিকাডাঙ্গা অস্থায়ী কালীমন্দির সংলগ্ন আক্কাস আলী শেখের সঙ্গে। তার দোকানের নিকট গিয়ে তিনি মোবাইলে ১১সেকেন্ড কথা বলেন। তারপর থেকেই তার মোবাইল বন্ধ ও তিনি নিখোঁজ হন। এ বিষয়ে মাগুরা সদর থানায় জিডি করেন তিনি। পরবর্তীসময়ে মামলা করতে গেলে প্রত্যক্ষ স্বাক্ষির অভাবে মামলা না নিয়ে একটি অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে।

রত্না খাতুনের ছোট বোন স্বপ্না আক্তার বাদী হয়ে ডিজি করেন ও পরে অভিযোগ দায়ের করেন। জিডি নাম্বার ৫৪৫ তাং -৮/৭/২০২৬। অভিযোগের নাম্বার হয় না বলে পুলিশ তাদেরকে জানিয়েছে। অভিযোগপত্রে সরাসরি ফারুককে বিবাদী করা হয়েছে। আক্কাসের পরিচিত জনৈক ফারুক (পিতা হিরণ মোল্লা,ঠিকানা খাসকান্দি থানা ও জেলা ফরিদপুর)-এর সঙ্গে রত্না খাতুনের মোহরানা ও যৌতুক মামলা আদালতে বিচারাধীন। মামলা নং -সিআর ১৫৭৭/২৫।

বিবাদী ফারুক রত্না খাতুনের সাবেক স্বামী। কয়েক বছর আগে তিনি রত্না খাতুনের নিকট যৌতুক হিসেবে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন এবং তাকে মারধর করেন বলে মামলার এজাহার থেকে জানা যায়। পরে তিনি তাকে তালাক দেন এবং নতুন করে অন্য একজনকে বিয়ে করেন। তারপরই রত্না খাতুন তাকে আসামী করে মামলা দায়ের করলে ফারুক ও তার বর্তমান স্ত্রী দ্বারা নানা ধরনের হুমকির মধ্যে ছিলেন। তারা টেলিফোনে রত্না খাতুনকে নানা হুমকি দিয়ে আসছিল।পুলিশকে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ মাসাধিকাল অতিবাহিত হলেও নিখোঁজ রত্নার সন্ধান বের করতে পারেনি মাগুরা পুলিশ। মামলাটি পিবিআইকে হস্তান্তরের দাবি রত্নার প্রবাসী কন্যা আঁচলের।

জানা গেছে, রত্না খাতুন যখন তার পশু হাসপাতাল পাড়ার বাসা থেকে বের হন তখন এক প্রতিবেশী তার নিকট জানতে চান তিনি কোথায় যান। জবাবে তিনি বলেন, আমি বাজার আনতে যাই।

তারপর সন্ধ্যা ৭.০১ মিনিটে তিনি বাতিকাডাঙ্গার সেনিটারি মিস্ত্রি ও চুলা বিক্রেতা আক্কাস আলী শেখকে মোবাইল দেন। তার দোকানের নিকট গিয়ে তিনি মোবাইলে তার সঙ্গে ১১সেকেন্ড কথা বলেন। তারপর থেকেই তার মোবাইল বন্ধ ও তিনি নিখোঁজ হন।

মোবাইলে তিনি আক্কাসকে বলেন ভাই ‘আপনি কোথায়? আমি আপনার দোকানে এসেছি।’ আক্কাস বলেন আমি আসছি। আপনি একটু অপেক্ষা করুন। তার কয়েক মিনিটের মধ্যেই রত্না খাতুনের মোবাইল বন্ধ হয়ে যায়।

রত্না খাতুনেরে একমাত্র মেয়ে বৃটেন প্রবাসী। তিনি জানান, এই আক্কাস আলী শেখ সেনিটারি মিস্ত্রি ও চুলা বিক্রেতা। তার নিকট থেকে নিখোজ রত্না আক্তার বেশ কয়েক বছর আগে একটি চুলা কিনেন। এই সূত্রে তার সঙ্গে পরিচয়। সে রত্না খাতুনের সাবেক স্বামী এবং তার মা’কে অপহরণ করে গুম করতে পারেন এই সন্দেহেভাজন ফারুকের পূর্বপরিচিত। চুলার দাম রত্না খাতুন অনেক আগেই পরিশোধ করেছেন। এটা আঁচল জানেন। আঁচল জানান, এখন আক্কাস আলী শেখের সঙ্গে নিখোঁজ রত্না খাতুনের কী কাজ থাকতে পারে- তার জবাবে সে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করে চলেছে। সে চুলার বকেয়া ১ হাজার টাকা দিতে গেছেন বলে জানায়। টেলিফোনালাপের সূত্র ধরে আক্কাসকে মাগুরা থানা পুলিশ একাধিকবার থানায় নিয়ে গেলেও তার নিকট থেকে কোনো তথ্য বের করতে না পেরে প্রতিবারই তাকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
আঁচল অভিযোগ করেন পুলিশ ফারুককে এখনো আটক করেনি। এ বিষয়ে পুলিশ আঁচলকে জানিয়েছে, ফারুক তার মোবাইল এখনো খোলা রেখেছে এবং সে তাঁর ঠিকানা পরিবর্তন করেনি। তাই ফারুককে সন্দেহ করছে না পুলিশ।

আঁচল অভিযোগ করেন পুলিশ ফারুককে এখনো আটক করেনি। এ বিষয়ে পুলিশ আঁচলকে জানিয়েছে, ফারুকের মোবাইল এখনো খোলা রেখেছে এবং সে তাঁর ঠিকানা পরিবর্তন করেনি। তাই ফারুককে সন্দেহ করছে না পুলিশ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ