1. admin@janapadnews24.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

পটুয়াখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রেকর্ড কিপার সাহিদা সুলতানার বিরুদ্ধে আদালতের প্রভাব ব্যবহার করে প্রতিবেশীর জমি দখলের চেষ্টা, একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের কিসমত ঝাটিবুনিয়া গ্রামে।

এ বিষয়ে রনি হাওলাদার মঙ্গলবার ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে পটুয়াখালী জেলা জজ ও পাবলিক প্রসিকিউটর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ।

অভিযোগে জানা গেছে, কিসমত ঝাটিবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা রনি হাওলাদার গং পৈতৃক সূত্রে জমি ভোগদখল করে আসছেন। ওই জমির ২০৮ ও ১৯৯ নম্বর দাগে তাদের বসতঘর এবং বাবা-মায়ের কবরস্থান রয়েছে। সাহিদা সুলতানা আদালতের চাকরির প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ, মির্জাগঞ্জ থানা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় এবং আদালতে একাধিক মামলা করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে কয়েকবার বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা হলেও তারা তা মানছেন না। সর্বশেষ সাহিদা তার কর্মরত আদালতে আরেকটি মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন পরিবারটিকে । মামলা নং ৫৯/২০২৩।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাহিদা সুলতানা ২০০৯ সালে পটুয়াখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রেকর্ড কিপার পদে যোগদান করেন। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার সুযোগ নিয়ে তিনি প্রভাব বিস্তার করছেন।

এদিকে সাহিদা সুলতানার বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত বিরোধে বাড়িতে গিয়ে হুমকি-ধামকি এবং আদালতের প্রভাব খাটানোর অভিযোগের কিছু ভিডিও ও অডিও রেকর্ড সাংবাদিকদের হাতে এসেছে।

সেখানে একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সাহিদা সুলতানা ও তার ভাই শাহজাদা সোহাগ প্রতিবেশী পরিবারের সঙ্গে কথা বলছেন এবং বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে চাপ সৃষ্টি করছেন। এছাড়া একটি অডিও রেকর্ডে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও আদালতের কার্যক্রম নিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের কথোপকথন রয়েছে।

আরেকটি অডিও রেকর্ডে মির্জাগঞ্জ সহকারি জজ আদালতের পেশকার ও অফিস সহায়কের সঙ্গে মামলার তারিখ নিয়ে কথোপকথন শোনা যায়। সেখানে সংশ্লিষ্টরা সাহিদা সুলতানা আদালতের কর্মচারী হওয়ায় তার কথা গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, সাহিদা সুলতানা আদালত ও পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে জড়িত। তার বাবা মোতাহার উদ্দিন ঝন্টু মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সদস্য এবং তার ভাই শাহজাদা সোহাগ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্য ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

রনি হাওলাদার বলেন, বর্তমানে তিনি পটুয়াখালী আদালতে কর্মরত থাকায় আমরা ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত। তাকে অন্যত্র বদলি না করা হলে আমরা সুষ্ঠু বিচার থেকে বঞ্চিত হব।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাহিদা সুলতানার বক্তব্যর জন্য তাকে ফোন করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন।

আদালতের রেকর্ড কিপারের বিরুদ্ধে প্রতিবেশীকে হয়রানি ও জমি দখলের অভিযোগ

মোহাম্মদ শাখাওয়াৎ হোসাইন।।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ১২ রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) ১৪৪৮ হিজরি উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে কসবা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানজিল কবির, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আলমগীর মিয়া, কসবা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল খায়ের স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ইকলিল আজম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা শিবলী নোমানী, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন, এনসিপির জেলা যুগ্ম সমন্বয়ক শরিফ আব্দুল বাতেন, গণঅধিকার পরিষদের উপজেলা সভাপতি মাওলানা হিজবুল্লাহ হেলালী প্রমুখ।

এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক, ইমাম, আলেম-ওলামা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তাঁর জীবন ও কর্মে মানবতা, ন্যায়বিচার, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, ক্ষমা, সহনশীলতা ও শান্তির অনন্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। মহানবী (সা.) এর আদর্শ অনুসরণ করলে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে সমাজে বিভিন্ন ধরনের অবক্ষয়, হিংসা, বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতা দেখা যাচ্ছে। এসব থেকে উত্তরণের জন্য মহানবী (সা.) এর শিক্ষা ও আদর্শকে ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মহানবী (সা.) এর জীবনাদর্শ সম্পর্কে জানাতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

তারা মহানবী (সা.)-এর দেখানো শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিকতার পথ অনুসরণ করে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, বাল্যবিবাহ ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) এর তাৎপর্য ও মহানবী (সা.) এর কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

কসবায় ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল