ঢাকাস্থ বাউফল উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফলাফল প্রকাশ, নবনির্বাচিত কমিটির অনুমোদন, শপথ অনুষ্ঠান এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। সমিতির সদস্য এস এম ফরিদ উদ্দিন (সদস্য নং ৪৭৪)-এর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল লিখিতভাবে এ অভিযোগ দায়ের করেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, নবনির্বাচিত ৩৭ সদস্যের কমিটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে কমিটিকে অনুমোদন দিয়েছে। এ তথ্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সমিতির অনেক সদস্য ওই অনুমোদন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ১৬ মে দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে আপত্তিসহ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। পরে ১৭ মে বিকাল ৩টা ৬ মিনিটে ফলাফল প্রকাশ এবং একই দিন বিকাল ৬টা ৫৪ মিনিটে কথিত ৩৭ সদস্যের নতুন কমিটির নাম প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে ১৮ মে সমাজসেবা অফিসে ফলাফল জমা দেওয়ার কথা ছিল বলে অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেন।
এদিকে ১৯ মে সদস্য এস এম ফরিদ উদ্দিন ঢাকা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ও নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ আবু সাঈদ মো. কাওছার রহমানের কাছে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক পাঠানো ফলাফলকে “সাজানো, মনগড়া ও বানোয়াট” আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের আবেদন করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, ২২ মে বিকাল ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বাসভবনে বসে পূর্বের তারিখ উল্লেখ করে অনুমোদনপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৮ মে তারিখ দেখিয়ে পরবর্তীতে অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তারা এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ঘোষিত ফলাফলের সঙ্গে প্রকৃত তথ্যের অমিল রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি অনুযায়ী, ফলাফল প্রকাশের প্রকৃত তারিখ ছিল ১৭ মে এবং চূড়ান্ত বিজয়ী প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয় ১৭ মে বিকাল ৫টার পরে। এদিকে সমিতির সদস্য ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রব মিয়া ১৮ মে রাত ৭টা ৩০ মিনিটে নবনির্বাচিত ৩৭ সদস্যের কমিটির শপথ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ জানালেও, অনুষ্ঠানের নির্ধারিত সময়ের আগেই তা স্থগিত ঘোষণা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচনের পূর্বে বাউফলের স্থানীয় সংসদ সদস্য জনাব শফিকুল ইসলাম, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে চিঠি দিয়ে সমিতির অনিয়ম অর্র্থ আত্মসৎ ও সমিতিতে প্রশাসক নিয়োগ ও নানা অনিয়মের বিষয়ে অবহিত করে চিঠিও দিয়েছিলেন।
সমিতির সদস্যদের একটি অংশের দাবি, গত ১০ বছরের অধিক সময়ের অডিট রিপোর্ট সমাজসেবা অধিদপ্তরে জমা এবং চলমান তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশের পর পুনরায় নির্বাচন আয়োজন করা হোক। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানিয়েছেন তারা।