গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা ও জনতার প্রত্যাশা—এক বাস্তবতার বিশ্লেষণ

লোকমান হোসেন পলা
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গণঅভ্যুত্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের ঘটনা। ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্রের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। সেই আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পালাবদলে খালেদা জিয়া-এর নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। দীর্ঘ সময় পর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরও একইভাবে তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে বিএনপির ক্ষমতায় আসা একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ইতিহাস আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা মনে করিয়ে দেয়—গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন শুধু সরকারের নয়, জনতার প্রত্যাশারও এক বিশাল উত্থান ঘটায়।
গণঅভ্যুত্থান সাধারণত তখনই ঘটে, যখন জনগণ দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, দুর্নীতি, অন্যায় এবং দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে একত্রিত হয়ে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। তাই এই ধরনের আন্দোলনের মাধ্যমে যে সরকার ক্ষমতায় আসে, তাদের প্রতি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা অনেক বেশি থাকে। মানুষ চায় দ্রুত পরিবর্তন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দুর্নীতির দমন এবং একটি স্বচ্ছ প্রশাসন।
১৯৯০ সালের পর খালেদা জিয়া-এর সরকার ক্ষমতায় এসে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা করলেও, সব প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। কারণ বাস্তবতা হলো—একটি আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতা পরিবর্তন যত দ্রুত হয়, রাষ্ট্রীয় কাঠামো পরিবর্তন তত সহজ নয়। প্রশাসনিক জটিলতা, পুরনো ব্যবস্থার প্রভাব এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক সময় সেই পরিবর্তনের গতি কমিয়ে দেয়।
একইভাবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে বিএনপি আবার ক্ষমতায় আসলে জনগণের প্রত্যাশা আরও বেশি উচ্চতায় পৌঁছেছে। বর্তমান প্রজন্ম আরও সচেতন, তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ এবং তাদের চাহিদাও বহুমাত্রিক। তারা শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং বাস্তব উন্নয়ন দেখতে চায়—কর্মসংস্থান, শিক্ষার মানোন্নয়ন, দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে—গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতায় আসা সরকার কি সেই উচ্চ প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে? বাস্তবতা বলছে, সব প্রত্যাশা পূরণ করা কঠিন, তবে সৎ উদ্যোগ, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা থাকলে জনগণের আস্থা ধরে রাখা সম্ভব।
জনগণেরও একটি দায়িত্ব রয়েছে। শুধু প্রত্যাশা নয়, বরং ধৈর্য, সহযোগিতা এবং গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে একটি নতুন সরকারকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। কারণ একটি দেশের পরিবর্তন রাতারাতি হয় না, এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
সবশেষে বলা যায়, গণঅভ্যুত্থান শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়—এটি একটি নতুন আশার সূচনা। সেই আশাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে সরকার ও জনগণ উভয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তাহলেই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত উদ্দেশ্য সফল হবে এবং একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ও উন্নত রাষ্ট্র গড়ে উঠবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ