জিয়া পরিবারের বিশ্বস্ত মুশফিক কি এবার মন্ত্রিত্ব পাচ্ছেন?

লোকমান হোসেন পলা
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৮৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ের পর এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানকে নিয়ে নতুন আশায় বুক বেঁধেছেন কসবা ও আখাউড়া উপজেলাবাসী। বিএনপির বর্ষীয়ান এই রাজনীতিককে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দেওয়ার দাবি দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকার সাধারণ মানুষদের। বিগত ২০০১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পরও মুশফিকুর রহমানকে মন্ত্রিত্ব দেয়ার বিষয়টি আলোচনায় ছিল।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুশফিকুর রহমান ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ৮৪২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আতাউর রহমান সরকার ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে পেয়েছেন ৯১ হাজার ৭৯৬ ভোট। এ আসনটিতে মোট ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাবেক প্রভাবশালী আমলা মুশফিকুর রহমান চাকুরী জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্বব্যাংকের সাবেক বিকল্প নির্বাহী পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন সাবেক সচিব মুশফিকুর রহমান। একজন বিচক্ষণ অর্থনীতিবিদ হিসেবেও সুনাম রয়েছে তার।

দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত মুশফিকুর রহমান বর্তমানে তিনি দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দল যখনই কোনো সংকটে পড়েছে, তখনই দলের জন্য ঝাপিয়ে পড়েছেন তিনি। বিশেষ করে বিগত ১/১১ এর সময়ে জিয়া পরিবার ও বিএনপির যখন চরম দুঃসময়, তখন দল ও নেতার্মীদের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়ান মুশফিকুর রহমান।

জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত মুশফিকুর রহমানকে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া মন্ত্রী পরিষদে স্থান দেওয়ার দাবি এলাকাবাসী ও দলের নেতাকর্মীদের। এর মাধ্যমে জীবনের পড়ন্ত সময়ে এসে মুশফিকুর রহমান জিয়া পরিবার এবং দলের আন্দোলন-সংগ্রামে তার অবদানের জন্য উপযুক্ত মূল্যায়িত হবেন বলে মনে করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মনসুর মিশন বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা বিভিন্ন জনসভায় ও উঠান বৈঠকে ভোটারদের আশ্বস্ত করেছি মুশফিকুর রহমান জয়লাভ করলে উনি এবার মন্ত্রী হবেন। কসবা-আখাউড়ার মানুষ মনে করেন মুশফিকুর রহমানই এলাকার কাঙ্খিত উন্নয়ন করতে পারবেন। সীমান্ত এলাকার প্রধান সমস্যা মাদক ও চোরাচালান বন্ধ, বেকারদের কর্মসংস্থান, নারী শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সকল মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে ইতোমধ্যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন মুশফিকুর রহমান। তার মতো একজন পরিচ্ছন্ন ও সৎ মানুষ যদি মন্ত্রিত্ব পান, তাহলে সেটি সমগ্র দেশের জন্যই ভালো হবে।

তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর দল মুশফিকুর রহমানকে মন্ত্রিত্ব দেয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি মন্ত্রিত্ব না পাওয়ায় সেটি নিয়ে এলাকাবাসী ও দলের নেতাকর্মীদের মাঝে কিছুটা ক্ষোভ আছে। তাই আমরা চাই দলে তার অবদান মূল্যায়ন করে নির্বাচনী এলাকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়ে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে মন্ত্রীসভায় স্থান দেবেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ