ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এক শিশুর চিকিৎসার জন্য বরাদ্ধকৃত টাকা অসহায় পিতার হতে তুলে দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন অগ্রভাগীয় সাহিত্য সংগঠন নামে একটি সামাজিক সংগঠন। বুধবার বিকেলে উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়নের দেলী গ্রামের দরিদ্র আসাদুল্লাহ মিয়ার হাতে নগদ ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। একই দিনে আসাদুল্লাহ মিয়াসহ আরও দুটি পরিবারকেও আর্থিক সহায়তা করেন অগ্রভাগীয় সাহিত্য সংগঠন। এ উপলক্ষে ছোট পরিসরে খাড়েরা ইউপি সদস্য মোঃ মাহবুবুল হকের বাড়িতে আলোচনা সভা অনষ্ঠিত হয়।
অগ্রভাগীয় সাহিত্য সংগঠন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আশফাতুল হোসেন ভূইয়া এলমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, ডাঃ বদিউল আলম মিলন, সৈয়দাবাদ উত্তর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাদাত হোসেন, ইউপি সদস্য মাহবুবুল হক, মেজবাহ উদ্দিন খান মিজু, মফিজুল হক মাষ্টার, মুজিবুর রহমান, আবদুল মান্নান ও চঞ্চল খান প্রমুখ।
জানা যায়, উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়নের মনকাশাইর আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা দেলী গ্রামের আসাদুল্লাহ মিয়ার শিশুপুত্র আবদুর রহমান জন্মের পর থেকেই শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা দেখা দেয়। জন্মের পর আবদুর রহমানের পিতা-মাতা তার চিকিৎসার জন্য চিকিসকের শরনাপন্ন হলে পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানায় শিশু আবদুর রহমানের হার্টে ছিদ্র রয়েছে। তার উন্নত চিকিৎসার কথা জানায় চিকিৎসক। উন্নত চিকিৎসা না করালে শিশু আবদুর রহমান সুস্থ হবে না। আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাসকারী দরিদ্র পিতা-মাতার পক্ষে এমন ব্যয়বহুল চিকিৎসা করানো সম্ভব নয় বিধায় এলাকার বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষদের সহযোগীতা কামনা করেন। এসময় অসুস্থ আবদুর রহমানের পাশে এসে দাড়ান উপজেলার সামাজিক সেবামুলক প্রতিষ্ঠান অগ্রভাগীয় সাহিত্য সংগঠন। শিশুর চিকিৎসার জন্য সামর্থ অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা করেন সংগঠনটি। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের কাতারস্থ দেলী গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ শাহআলম খানের নিকট সহযোগীতা কামনা করা হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে । সংগঠনের আহ্বানে সাড়া দেন প্রবাসী ব্যবসায়ী শাহআলম খান। তিনিও শিশুটির চিকিৎসা সহয়তা বাবদ ৫০ হাজার টাকা দেন। কিন্তু শিশু আবদুর রহমানকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। কিছুদিন আগে প্রভুর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যায় না ফেরার দেশে। এ খবরে সকলেই মর্মাহত হন। পরে শিশু আবদুর রহমানের চিকিৎসার জন্য প্রবাসী ব্যবসায়ী শাহআলম খানের দেয়া নগদ ৫০ হাজার টাকা অগ্রভাগীয় সাহিত্য সংগঠনের তত্বাবধানে তুলে দেয়া শিশু মৃত আবদুর রহমানের পিতার হাতে। ওই শিশুর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদের খরচ হিসেবে ওই টাকা বুঝিয়ে দেয়া হয়।
অগ্রভাগীয় সাহিত্য সংগঠন সভাপতি আশফাতুল হোসেন ভ’ইয়া এলমান বলেন, সামাজিক সেবামুলক কাজের পাশাপাশি যেখানেই অর্থের অভাবে চিকিৎসা বঞ্চিত অসুস্থ রোগীর খবর পাই সেখানেই আমাদের সামর্থ অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা নিয়ে ছুটে যাই। আমাদের আর্থিক সহায়তা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ওই এলাকার বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষগুলোকে অবগত করি। তারাও যেন আমাদের মতো এসব মানুষের প্রতি সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেন। সবখানেই এসব হৃদয়বান মানুষের সাড়া পাই। আমাদের সহায়তাটুক উপলক্ষ মাত্র। আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসেন সমাজের হৃদয়বান মানুষজন । এতে উপকৃত হয় অসহায় মানুষগুলো। সবাই যার যার জায়গা থেকে সমাজের অসহায় দরিদ্র ও চিকিৎসা বঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়াবেন এটাই অগ্রভাগীয় সাহিত্য সংগঠনের প্রত্যাশা।