হাজারো মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, মিল্লাত গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা ও নকল প্রতিরোধ আন্দোলনের উদ্যোক্তা জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মিয়া আব্দুল্লাহ ওয়াজেদ আব্দু মিয়ার শেষ বিদায় সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাদ জোহর কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের কুটি ওয়াজেদ নগরে আজগর আলী দাখিল মাদ্রাসা মাঠে তাঁর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নিয়ে প্রিয় নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। এ সময় পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড স্মরণ করে বক্তব্য দেন।
এর আগে বুধবার বাদ জোহর জাতীয় সংসদ ভবন-এর দক্ষিণ পাশে তাঁর প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, সাবেক সংসদ সদস্য, ব্যবসায়ী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর প্রবীণ নেতা মিয়া আব্দুল্লাহ ওয়াজেদ আব্দু মিয়া (৮২) মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুতে কসবা-আখাউড়া তথা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৬ মেয়ে ও ২ ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পরিবার সূত্র জানায়, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন।
মিয়া আব্দুল্লাহ ওয়াজেদ আব্দু মিয়া ১৯৯১ সালে এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি শিক্ষা, অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে স্থানীয়রা জানান। তিনি মেয়েদের শিক্ষার উন্নয়নে নিজ গ্রাম কুটিতে মিয়া আব্দুল্লাহ ওয়াজেদ মহিলা ডিগ্রী কলেজ ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন। তিঁনি এলাকায় দানবীর হিসেবেও সুপরিচিত ছিলেন।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন সফল শিল্পোদ্যোক্তা। তিনি মিল্লাত গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষেত্রেও সুপরিচিত ছিলেন। এছাড়া দেশে নকল প্রতিরোধ আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন। শিক্ষাঙ্গনে নকলবিরোধী সচেতনতা গড়ে তুলতে তাঁর উদ্যোগ সে সময় ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। এ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘ছাত্র বন্ধু’ খেতাবে ভূষিত হন।
তিনি বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (CIP) হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি লাভ করেন। পাশাপাশি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সদস্য এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক হিসেবে সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন, তিনি ছিলেন সৎ, নির্লোভ ও জনমুখী রাজনীতির অনুসারী। এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।