সিলেটের সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থা পাণ্ডুলিপি প্রকাশন-এর আয়োজনে কবি কামরুন্নাহার চৌধুরী শেফালী রচিত ‘গোলাপগঞ্জের কৃতি ও স্মৃতি’ গ্রন্থের পাঠ আলোচনা ও সুহৃদ আড্ডা ৬ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রোজ সোমবার বিকেল ৫টায় সিলেট নগরীর হাওয়াপাড়াস্থ সাহিত্য ক্যাফের কবি দিলওয়ার মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়|
পাণ্ডুলিপি প্রকাশন-এর ¯স্বত্বাধিকারী, লেখক ও গবেষক বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লোকসাহিত্য গবেষক ড. তৈয়বুর রহমান চৌধুরী| বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যক্ষ কবি কালাম আজাদ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক ও সংগঠক প্রিন্সিপাল এম. আতাউর রহমান পীর, বর্ষীয়ান সাংবাদিক লেখক ও বৃক্ষপ্রেমিক আফতাব চৌধুরী, মাসিক বিশ্ববাংলা সম্পাদক কবি মুহিত চৌধুরী, সিলেট লেখিকা সংঘের সাবেক সভানেত্রী সালমা বখত চৌধুরী, বিজ্ঞানকবি, লেখক ও গবেষক এবং সাপ্তাহিক খোঁজখবর সম্পাদক হাসনাইন সাজ্জাদী ও বিশিষ্ট লেখক, গবেষক এবং ছড়ালোক সম্পাদক শাহাদত বখত শাহেদ| প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ‘গোলাপগঞ্জের কৃতি ও স্মৃতি’ গ্রন্থের লেখক কামরুন নাহার চৌধুরী শেফালী| সঞ্চালক ছিলেন মিডিয়া কর্মী জালাল জয়|
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. তৈয়বুর রহমান চৌধুরী বলেন, লোকসাহিত্যের ইতিহাস যেমন দেশ ও সমাজের ইতিহাস তেমনি দেশ এবং সমাজের ইতিহাস একটি জাতির শিকড়| গ্রন্থের লেখক কামরুন নাহার চৌধুরী শেফালী তার দীর্ঘ সাহিত্য জীবনে সভ্যতার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন বলে আমি মনে করি|
অধ্যক্ষ কবি কালাম আজাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর হেড অব দ্য ডিপার্টমেন্টের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, মানুষ যখন বড় হয় তখন সে তার শেকড়ের সন্ধান করে| কামরুন নাহার চৌধুরী শেফালী শেকড় সন্ধানী কাজ করে একটি বড় দায়িত্ব পালন করেছেন|
এম. আতাউর রহমান পীর তার বক্তব্যে গ্রন্থের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমল পর্যন্ত প্রশাসনে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা ছিল শীর্ষে| দেশ ভাগের পর সর্বোচ্চ সচিব আমলা ছিলেন গোলাপগঞ্জের| মেধার সিঁড়িতে গোলাপগঞ্জ এক অনন্য নাম| তিনি লেখককে এই মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করার জন্য ধন্যবাদ জানান|
কলামিস্ট আফতাব চৌধুরী তার বক্তব্যে বিষ্ময় প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ বিয়াল্লিশ বছরের সাংবাদিকতায় কম লেখালেখি করিনি| কিন্তু কামরুন নাহার চৌধুরী শেফালীর মতো এত বড় একখানি গ্রন্থ লেখার দুঃসাহস এখনও দেখাতে পারিনি|
কবি মুহিত চৌধুরী তার বক্তব্যে গ্রন্থের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং সভ্যতার অগ্রযাত্রায় এ জাতীয় গ্রন্থের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন| তিনি বলেন, শেকড় সন্ধান ইতিহাস সমাজ গঠনে ভূমিক রাখে, গুণীজন ˆতরি করে, মেধার বিকাশ ঘটায়|
সালমা বখত চৌধুরী তার বক্তব্যে সিলেটের সাহিত্যাঙ্গনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং গ্রন্থের লেখক কামরুন নাহার চৌধুরী শেফালীর লেখালেখির ভূয়সী প্রশংসা করেন| তিনি সিলেট লেখিকা সংঘের অচলাবস্থা দূর করার জন্য স্থানীয় লেখিকাদের ভূমিকা প্রত্যাশা করেন|
হাসনাইন সাজ্জাদী তার বক্তব্যে চর্যাপদ থেকে শুরু করে বৈষ্ণব সাহিত্যে সিলেটী মনীষীদের ভূমিকার উল্লেখ করে বৈষ্ণব সাহিত্যকে বাংলা সাহিত্যের ছাদ হিসেবে তুলে ধরেন| চৈতন্যদেব মহাপ্রভু সম্পর্কে তিনি বলেন, একজন ধর্মীয় নেতা কেবল নয় বাংলা সাহিত্যের একজন বিরাট নেতাও ছিলেন তিনি| গোলাপগঞ্জের ইতিহাস বাংলা সাহিত্য এবং বাংলাদেশের প্রাচীনত্বের ইতিহাস| যখন ঢাকা-যশোর বঙ্গোপসারে বিলীন ছিল তখন সিলেট অঞ্চল বঙ্গদেশ হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে সভ্যতাকে গড়ে তুলেছিল|
শাহাদত বখত শাহেদ তার বক্তব্যে সিলেট নাগরীর প্রসঙ্গ তুলে তার চর্চাকে জোরদার করতে আহ্বান জানান এবং তিনি সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় কয়েকটি ছড়া পাঠ করেন| তিনি সাহিত্য ক্যাফের কার্যক্রম উল্লেখ করে বলেন, সিলেটের সাহিত্য সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে সাহিত্য ক্যাফ আগামীতে আরো নতুন নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করবে| কবি নজরুলের সিলেট আগমনের শতবছর পূর্তিকে স্মরণীয় করে রাখতে তিনি সিলেটের লেখকদের ভূমিকা প্রত্যাশা করেন|
সভাপতির বক্তব্যে বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল বলেন, প্রকাশক হিসেবে আমি সবসময় চেষ্টা করি সমাজ এবং দেশের দায়বদ্ধতাকে পালন করা| তাই আমার প্রকাশনা থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ প্রকাশ করেছি| ‘গোলাপগঞ্জের কৃতি ও স্মৃতি’ গ্রন্থের প্রকাশ এর ধারাবাহিকতা মাত্র| আগামীতেও আমি আমার প্রকাশনা থেকে দেশ এবং জাতির প্রতি দায়বদ্ধতা পালন করব| পাশাপাশি আমি নিজেও গবেষণাকর্মে রত| বৃহত্তর সিলেটের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে তুলে ধরা আমার জীবনের ব্রত|
অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন কবি ও শিক্ষাবিদ বাছিত ইবনে হাবীব, কবি ও গল্পকার শামীমা আক্তার ঝিনু, সোয়েব লস্কর, কামরুজ্জামান মাসুম, কবি ও অধ্যাপক জান্নাত আরা খান পান্না, কামাল আহমদ, জান্নাতুল ফেরদৌস চৌধুরী, শাহেদা পারভীন চৌধুরী নাজমা, জোহরা মমতাজ বেগম, আমিনা শহীদ চৌধুরী মান্না, লেখক ছয়ফুল আলম পারুল, মহি উদ্দিন চৌধুরী, কুবাদ বখত চৌধুরী, গীতিকার ˆসয়দ আতিকুল ইসলাম, নিশাত ফাতেমা মেহের, মকবুল আহমদ, ছিদ্দিকুর রহমান চৌধুরী, নজরুল ইসলাম সবুর, তাজুল ইসলাম, সাদ্দাম হোসেন জুনেদ, মোঃ এনামুল হক, এ কে শামীম আহমদ, রাসেল আহমদ দিপু, মকসুদ আহমদ, শাহ ছিদ্দিক চিশতী, আয়েশা মুনিম নাজমীন, ফখরুল ইসলাম শাকিল, আফিফাহ খানম, শাহ আব্দুল খালেক চিশতী ও আলো জান্নাত প্রমুখ|
অনুষ্ঠানে ¯স্বাগত বক্তব্য রাখেন কবি ও আইনজীবী দেলোওয়ার হোসেন দিলু| শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন কামাল আহমদ|